এক ঠিকাদারের কব্জায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে

আতিকুল্লাহ আরিফ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : দুর্নীতি আর অবহেলায় বর্ষা মৌসুমে নদীর ভাঙন ঠেকাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবো’র কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে না। জাল অভিজ্ঞতার সনদ দেখিয়ে একজন ঠিকাদারকে পাউবোর অধিকাংশ কাজই দেয়া হয়েছে। গত ১৬ জুন আকবর খাঁন সোহেল নামে একজন ঠিকাদার চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাউবো’র দুর্নীতির বিস্তারিত ফিরিস্তি তুলে ধরে অভিযোগ দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাউবোর ৯০ ভাগ কাজই নামে- বেনামে দেয়া হয়েছে সাজিদ এন্টার প্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে।

পাউবো কর্মকর্তারা পছন্দের এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে গিয়ে কৌশলে অভিজ্ঞতার সনদ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। অভিযোগকারীরা বলছেন, বড় কাজের জন্য অতীতে নির্দিষ্ট অঙ্কের ঠিকাদারি কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। গত তিন বছরে আলোচিত সাজিদ এন্টারপ্রাইজকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাউবো’র অধিকাংশ কাজ দেয়া হয়েছে কখনও একক লাইসেন্সে আবার কখনও যৌথ লাইসেন্সে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাজিদ এন্টারপ্রাইজ কাজগুলো বাগিয়ে নিতে যেসব কাজের অভিজ্ঞতার সনদ দিয়েছেন সেগুলো ভুয়া। ঠিকাদার নির্বাচনের আগে লাইসেন্সের অভিজ্ঞতার সনদ সঠিকভাবে যাচাই করার নিয়ম। কিন্তু সাজিদ এন্টার প্রাইজের ক্ষেত্রে সংশিষ্ট পাউবো কর্মকর্তারা তা করেননি।

অভিযোগে জানা গেছে, সাজিদ এন্টার প্রাইজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাউবো’র একটি বড় কাজ পেতে খুলনা বিএডিসিতে ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকার কাজের ৬টি অভিজ্ঞতার সনদ জমা দেন। সেই কাজটি তিনি পান। সম্প্রতি বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিযোগী কয়েকজন ঠিকাদার খুলনা অঞ্চল বিএডিসিতে যোগাযোগ করেন। ১৬ জুন খুলনা অঞ্চল বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (নির্মাণ) মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া লিখিতভাবে জানিয়ে দেন বিএডিসিতে সাজিদ এন্টার প্রাইজের কাজের অভিজ্ঞতার সনদগুলো সঠিক নয় এবং এই নামে কোনো প্রতিষ্ঠান বিএডিসির খুলনা অঞ্চলে কোনো কাজ করেননি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ শহিদুল আলম বলেন, সাজিদের অভিজ্ঞতার জাল সনদের বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই। তবে এমন অভিযোগের কথা তিনি সম্প্রতি শুনেছেন। বালু মাটি ও পলি বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব সম্পদ নিলাম একটি কমিটির মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। অনিয়মের মাধ্যমে যোগ্য অন্য ঠিকাদারদের বঞ্চিত করে সাজিদকে বিপুল কাজ দেয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই অন্যের লাইসেন্স নিয়ে এসে কাজ করেন। সাজিদের বড় কাজগুলোতে জয়েন্ট ভেঞ্চার বা যৌথ অংশগ্রহণ রয়েছে। কোনো অনিয়ম করা হয়নি।

জাল অভিজ্ঞতার সনদে কাজ নেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে সাজিদ এন্টার প্রাইজের মালিক সাইফুল ইসলাম রাজুু বলেন, তিনি কোনো জাল সনদ দিয়ে কাজ নেননি। সব কাজই তিনি নিয়ম মেনে পেয়েছেন। বালু নিলামও তাকে নিয়মের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে।

অভিযোগকারী ঠিকাদার আকবর খাঁন সোহেল জানান, সাজিদ এন্টার প্রাইজের মালিক সাইফুল ইসলাম রাজু , পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী ও অফিসের কর্মকর্তারা এ দুর্নীতির সাথে জড়িত আছে তদন্ত করলে তা বেরিয়ে আসবে।

আরও খবরঃ

Leave a Comment